মাহবুব কামাল, দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক
মৌচাকে ঢিল মেরেছি, দেরি করলে কামড়ানো শুরু করবে। হ্যাঁ, একটা লিটমাস টেস্ট হয়ে গেল। এটাই আশা করেছিলাম। এভাবেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য। ব্যক্তিগতভাবে আমি মিথ্যার ধার ধারি না, তাতে যদি কেউ লটকিয়ে দেয়, অসুবিধা নেই।
আসলে এ দেশে সবচেয়ে অসহায় বুঝি সংখ্যাতত্ত্ব। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে statistics অর্থাৎ পরিসংখ্যান বিভাগ তুলে দেওয়া উচিত। যা পড়ে বাস্তবে প্রয়োগ করা যায় না, সেটা পড়ে কী লাভ! হ্যাঁ, আমরা সবাই প্রকৃত সত্যটা জানতে চাই। আমার এই অ্যাকাউন্টটা সত্য উদ্ঘাটনের একটা প্ল্যাটফর্ম হয়ে পড়েছে, আনন্দ পাই বৈ কি! আসলটা ৩ নম্বরে আছে, আগের দুটো ঠেসমূল।
১. একবার বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু টেলিভিশনে বললেন, বঙ্গবন্ধুর আমলে ৪০ হাজার জাসদকর্মী হত্যা করা হয়েছিলো! জাসদ আমার পুরনো প্রেমিকা, ফলে এর আগাপাশতলা আমি নিখুঁতভাবে জানি। আমি তখন চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, তিনি যদি আমাকে ৩শ’ জনের (সংখ্যাটা আরও কম বলতে পারতাম, ঝুঁকি নেইনি) একটি তালিকা দিতে পারেন, জীবনে আর রাজনীতি নিয়ে কথা বলবো না। এই তালিকা আমি এখনও পাইনি। অথচ তালিকাটা করা খুব সোজা। দেশের ৪৬০টি উপজেলার প্রতিটিতে বয়স্কদের জিজ্ঞেস করলেই পাওয়া যাবে সেই উপজেলায় ঠিক কতজন জাসদকর্মী নিহত হয়েছিলেন। এই বিষয়ে কেউ যদি আগ্রহী হন, উপজেলাগুলোয় লোক পাঠানোর খরচ আমি স্পন্সর জোগাড় করে দিতে পারবো।
২. শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে দুই থেকে তিন হাজার লোক মারা গিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিলো। হেফাজত অবশ্য বলেছিলো এক হাজার লোকের কথা। অথচ ডেইলি স্টার তখন লিখেছিলো, ৬ জন নিহত হয়েছেন। অবশ্য আরও দু’তিনটি সংস্থা সংখ্যাটা জানিয়েছিলো, তবে কোনোটিও পঞ্চাশের অধিক নয়।
৩. আসলে বড় বড় ঘটনার কোনোক্ষেত্রেই আমরা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে পারি না। জুলাই-আগস্টে দুই সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন, এমন দাবিও আছে। অথচ ৫ মাস পর যে তালিকা পাওয়া গেল, সংখ্যাটা অর্ধেকেরও অনেক কম। এই তালিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। ধরে নেয়া যাক, তালিকাটা শুদ্ধ। অনেকেই যে প্রশ্নটা করেছেন, এদের সবাই কীভাবে নিহত হয়েছিলেন? কথাটা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যদি বিনা উস্কানিতে একজনও নিহত হয়ে থাকে, সেই দায়ও শেখ হাসিনাকে নিতে হবে। যে তালিকা পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে কে কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, আমাদের জানা দরকার।
পুলিশ কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে গুলি করেছিলো কিনা, সেটাও জানা দরকার। আবার সাখাওয়াত সাহেব কিন্তু ৭.৬ সম্পর্কে কী যেন একটা বলায় তাকে ডিগ্রেডেড করা হয়েছিলো। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে বিষয়টিতে কনভিন্সড হতে হয়।